আমার অভিজ্ঞতা: কিছু উগ্র হিন্দু এবং লীগ যখন আলেমদেরকে ধর্ম শেখাতো এবং জন সাধারণদেরকে শিবির ট্যাগ দিতো।
ঝিনাইদহ কয়েকজন হিন্দু ব্যাক্তির সাথে পরিচয় হয় এর মধ্যে ভালো-মন্দ মিশে আছে তবে আজ এক হিন্দুর সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ণনা করছি।
ঘটনা:১- ২০২১ সাল।
ঝিনাইদহ ইম্পেরিয়াল কোচিং-এর শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে কোচিং-এ যাই। সেখানে যেয়ে জানতে পারলাম, আগে ফর্ম কিনে ফিলআপ করতে হবে, তারপর বাকি কথা। কোন কোন ক্লাস নিতে হবে, বেতন কতো, ডিউটি টাইম কিছুই জানাবে না। এদের নিয়ম অনুযায়ী ৫০ টাকার ফর্ম ফিল আপ করতে হবে তারপর কথা হবে। স্বাভাবিক ভাবে প্রশ্ন জাগে টাকা দিয়ে ফর্ম কিনবো অথচ কত টাকা বেতন দিবে সেটা জানতে পারবো না! ফর্ম বিক্রি করা ছিল তাদের ব্যবসা। অফিস সহায়ককে ভদ্রভাবে কিছু প্রশ্ন করলাম তার মধ্যে ছিল বেতন কত? কোন ক্লাসের ক্লাস নিতে হয়?
অফিস সহায়ক জানালেন, এ ব্যাপার কোনো কিছু বলা যাবেনা, একটু পরে পরিচালক আসবেন তারপর উনার সাথে কথা বলবেন। অপেক্ষায় রইলাম পরিচালক অমিয় মজুমদার অপু আসলেন আমাকে ডেকে সামনের চেয়ারে বসালেন তারপর জানতে চায়লেন কী কী জানতে চাই।
আমি নম্ভ্রভাবে কিছু বিষয় জানতে চাইলাম।
উনি আমার মুখে দাঁড়ি দেখলেন তারপর ঘাড় কাত করে পায়ের প্যান্ট ভাজ করা দেখলেন।
এবার শুরু হয়ে গেলো তার মাস্তানি, আমাকে বলল: তুমি শিবির করো, তুমিতো শিবির।
আমি বললাম, আমি যদি শিবির করতাম তাহলে তো এখানে আসতাম না, কেননা শিবিরের লোকদের তারা যেখান সেখানে পাঠায় না। আর আপনি আমার দাঁড়ি এবং প্যান্ট ভাজ করা দেখে শিবির বলেলন!
তারপর তার বক্তব্য শুরু হলো হুমকির সাথে। যে বক্তব্য গুলো নিম্নরুপ ছিল:
সে ইবির ছাত্র ছিল, সে ছাত্র অবস্থায় ছাত্রলীগের রাজনৈতির সাথে জড়িত ছিল, সে জানে ভালো ভাবে যে কারা শিবির করে। উদাহরণ টেনে বললেন, তার প্রতিষ্ঠানে এর আগে শিবিরের ছেলেরা ছিল তারা নামাজের সময় হলে ক্লাস বাদ দিয়ে নামাজের জন্য স্টুডেন্টদের ডাকত, তাদের কথা বার্তা ভালো ছিল না, তাদের কথা ছিল প্রতিবাদী। আর তোমার কথা বার্তা ও তেমন।
আমি: বলার চেষ্টা করলাম এ গুলো প্রত্যেক মুসলিম করে এ গুলো শুধু শিবির করেনা। আমার কথা থামিয়ে দিয়ে আবারো তার হুমকিমূলক উপদেশ বানি শোনাতে শুরু করল।
পাশে থাকা তার কর্মচারীরা নিশ্চুপ, এর মধ্যে কেও একটু ভুল করেছে তখনি তার সাথে এমন উগ্রবাদী আচারণ করল কল্পনার বাহিরে, পরে জানতে পারলাম সে তার স্টুডেন্ট ব্যাতিত সবার সাথে উগ্র আচারণ করে থাকেন।
সেদিন আমি কোনোভাবে চলে আসলাম তবে মনে রেখে দিলাম ঘটনাটি।
ঘটনা:-২ (২০২৩ সাল)
ওদের প্রতিষ্ঠানে দুই দিন পর পর ইংরেজি শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে পোস্ট দেয় ঝিনাইদহর বিভিন্ন গ্রুপে, তার প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক না থাকার একটি কারণ হলো তার আচারণের কারণে। আমি তাদের একটা পোস্টে কমেন্ট করেছিলাম এই কোচিং-এর পরিচালকের ব্যবহার খুবই খারাপ।
ব্যাস আবার শুরু হয়ে গেলো আমাকে খোঁজ করা। আমার প্রোফাইল উন্মুক্ত থাকায় তারা সহজে আমার নাম্বার সংগ্রহ করে ফেলে আমার প্রোফাইলে থাকা বিভিন্ন কোচিং সেন্টার থেকে। যেমন: আমি ওরাকলে (সানগুইন) ক্লাস নিতাম (এটির প্রধানও হিন্দু ছিল [ঝিনাইদহ শাখার]। তারপর ইউনিকে ক্লাস নিয়েছিলাম কয়েকদিন।
যাহোক তারা আমার নাম্বার কালেক্ট করে, তারপর তারা তাদের পরিচয় গোপন করে কল দেয়, আমাকে তাদের ট্যাপে ফেলায়, আমি অনুমান করতে পেরেছিলাম, যাহোক প্রয়োজনের তাগিদে তাদের ট্যাপে পড়তে বাধ্য হই। কৌশল ছিলো আমাকে টিউশনি দিবে এবং সেজন্য আমার সাথে সরাসরি কথা বলতে চায়। আমি গেলাম মুজিব চত্বরে সেখানে একটা চায়ের দোকানে বসে আছি, তারপর অমিয় মজুমদারের আগমন, আমার বাকিটা বুঝতে বাকি ছিলনা। ব্যাস আবারো শুরু হয়ে গেলো হুমকি।
যেমন: তুমি না আসতে চায়লেও আমি আমার লোক দিয়ে তোমাকে উঠিয়ে নিয়ে আসতাম।
আমি শুনে যাচ্ছি আর প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করছি, সে আমার সাথে নোংরা রাজনৈতি শুরু করে দিলো পাশে অন্য লোকজন নিয়ে। আমার নামে বিভিন্ন মিথ্যা বলা শুরু করল পাশে ছিল তারই লোক। এক পর্যায়ে আমাকে বলল, আমি চাইলে, তুমি ঝিনাইদহর কোথাও ক্লাস নিতে পারবা না।
আমি বললাম, আলহামদুলিল্লাহ।
বেচারা এবার আরো আগুন।
সে এখন আমাকে ধর্ম শেখাতে শুরু করল, কোথায় আলহামদুলিল্লাহ বলতে হয়। সাথে পাশে থাকা মুসলমানদের সমর্থন নেওয়ার সে চেষ্টা করলো যে আমি কোথায় আলহামদুলিল্লাহ বলতে হয় সেটা জানিনা। আমিও যা উত্তর দেওয়ার সেটাই দিলাম, রিজিকের মালিক আল্লাহ, আল্লাহ ব্যবস্থা করে দিবেন। তবে পাশে থাকা মুসলিমরা তার ভয়ে সেদিন আমাকে সাপোর্ট দেয়নি।
তবে এবার আমার উত্তর গুলো ছিল নির্ভয়ের, কেননা এখন আমি মাস্টার্সের ছাত্র তখন ছিলাম থার্ড ইয়ারের এবং ঝিনাইদহতে নতুন। সেক্ষেত্রে ঝিনাইদহতে থেকে একটু অভিজ্ঞতা থেকে পূর্বের মতো অতোটা ইতস্তত বোধ করিনি। যাহোক, এক পর্যায়ে সেদিনকার মতো চলে আসলাম এবং আমাকে সাবধান করে দিলেন কিছু নামধারী মুনাফেক মুসলিমদেরকে নিয়ে।
কিছু বিষয় আমি জানতাম না যে, অমিয় মজুমদার অপু, রাজনৈতিক ভালো ভাবে জড়িত ছিল। সে স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ছিল এবং খুনের আসামী মিন্টুর লোক ছিল, আর মিন্টু ছিল ঝিনাইদহর ত্রাস।
তবে এ গুলো স্বাভাবিক ঘটনা এর চেয়ে খারাপ ঘটনা আমার বন্ধুর সাথে ঘটেছিল যেটা অন্য একদিন বলবো, ইংশা আল্লাহ।
তাছাড়া ক্ষমতায় আছে এমন উগ্রবাদী হিন্দুদের হিসেব আলাদা তারা কত কিছুই না করছে। তবে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের উপর তাদের ক্ষমতার অপপ্রয়োগ অনেক কষ্টের।
বি:দ্র: সকল হিন্দুদের এর মধ্যে টানছিনা কেননা অনেক হিন্দু আছেন তাদের ব্যবহার অনেক ভালো।
✍️
#ZianurRahman
নিচে অমিয় মজুমদার অপুর কিছু ছবি দেওয়া হলো।


No comments:
Post a Comment